চীনের হাতে আগামী আয়োজনের দায়িত্ব
নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের সফল সমাপ্তি
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১৩-০৯-২০২৬ ০৭:৩৫:০৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৩-০৯-২০২৬ ০৭:৩৫:০৩ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
দুই দিনের নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনা, দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে ঐক্যমত্যের মধ্য দিয়ে ভারতের সভাপতিত্বে শেষ হলো ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলন।
শনি (১২ সেপ্টেম্বর) ও রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ১১ সদস্যের সম্প্রসারিত জোটটির বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতিতে আগামী দিনের পথনকশা তুলে ধরা হয়।
বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্বকারী এই জোটের সমাপ্তি দিনে প্রকাশ করা হয় ১৪০ অনুচ্ছেদের ‘নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন’, যেখানে বহুপাক্ষিকতা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক আইন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সম্মেলনে অংশ নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্রিকসকে কোনো নির্দিষ্ট শিবিরের বিরোধী জোট হিসেবে না দেখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, "ব্রিকস কারও বিরুদ্ধে নয়, বরং সহযোগিতা, উন্নয়ন এবং বহুপাক্ষিকতার পক্ষে।"
একই সঙ্গে তিনি ব্রিকসের নীতিগুলোকে কেবল আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়ার তাগিদ দিয়ে উল্লেখ করেন, "ব্রিকস এখন শুধু চিন্তাভাবনা তৈরির জায়গায় আটকে থাকতে পারে না, সেই ধারণাসমূহকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।"
অন্যদিকে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ‘গ্রেটার ব্রিকস’ ধারণার ওপর ভিত্তি করে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন। আগামী দিনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সুদৃঢ় অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সমন্বিত বাজার তৈরি এবং প্রযুক্তি ও সেবা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্রিকস দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।"
তিনি একটি ‘ব্রিকস এআই ওপেন সোর্স জোন’ এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা করেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় বহুমুখী মেরুকরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, "বিশ্ব অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক শাসনকাঠামোয় রূপান্তরের জন্য ব্রিকস একটি অন্যতম প্রধান শক্তি।"
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট কমানো ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে যৌথ অবস্থান ঘোষণা করা হয়, যেখানে জোটের সদস্য ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ও বৈঠক বিশেষ মাত্রা যোগ করে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানো ও বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি পরিবেশ ও জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতির কথা যৌথ ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়।
প্রযুক্তিগত উন্নয়ন যেন উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও পৌঁছায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শেষ দিনে চিনের ওপর পরবর্তী অর্থাৎ ১৯তম ব্রিকস সম্মেলনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সমস্ত আলোচনা ও চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই জোটের সার্বিক সাফল্য নির্ভর করছে আগামী দিনের বাস্তব প্রয়োগের ওপর।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স